কুরআনের বানীপ্রবন্ধসম্পাদকীয়

রমযানের গুরুত্ব ও ফজিলত: কুরআনের আলোয়

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে রমযান মাস হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ সময়। নিচে এর গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কিত ৫টি প্রধান আয়াত তুলে ধরা হলো:

১. সিয়াম বা রোজা ফরজ হওয়া

রমযানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রোজা। মহান আল্লাহ এটিকে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন যাতে তারা পরহেযগারী অর্জন করতে পারে।

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواۡ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ

“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।” — (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৩)

২. কুরআন নাজিলের মাস

রমযানের সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো, এই মাসেই মানবজাতির হিদায়াতের জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٍ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِ‌ۚ

“রমযান মাসই হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী।” — (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৫)

৩. আল্লাহর ক্ষমা ও সান্নিধ্য

রমযানে বান্দা যখন রোজা রেখে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, আল্লাহ তখন তার অতি নিকটে থাকেন এবং দোয়া কবুল করেন

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِى عَنِّى فَإِنِّى قَرِيبٌ‌ۖ أُجِيبُ دَعۡوَةَ ٱلدَّاعِ إِذَا دَعَانِ‌ۖ فَلۡيَسۡتَجِيبُواۡ لِى وَلۡيُؤۡمِنُواۡ بِى لَعَلَّهُمۡ يَرۡشُدُونَ

“আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আমি তো তাদের পাশেই আছি। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে।” — (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৮৬)

৪. লাইলাতুল কদরের মহিমা

এই মাসের মধ্যেই রয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

“নিশ্চয়ই আমি এটি (কুরআন) নাজিল করেছি কদরের রাতে। আর আপনি কি জানেন কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” — (সূরা আল-কদর, আয়াত: ১-৩)

৫. গুনাহ থেকে মুক্তির সুযোগ

রমযানে যারা নিষ্ঠার সাথে ইবাদত করে, তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত।

“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিযিক।” — (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৫০) (উল্লেখ্য: রমযান হলো এই মাগফিরাত অর্জনের সর্বোত্তম সময়)


রমযানের বিশেষ ফজিলত একনজরে:

  • তাকওয়া অর্জন: রোজা মানুষকে কুপ্রবৃত্তি দমন করতে এবং আত্মসংযমী হতে শেখায়।
  • অধিক সওয়াব: এ মাসে একটি নফল ইবাদত অন্য মাসের ফরযের সমান এবং একটি ফরয ইবাদত সত্তরটি ফরযের সমান সওয়াব বহন করে।
  • জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত: হাদিস অনুযায়ী, এ মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *